মার্চ ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« জানু    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Free counters!

আতঙ্কের দেয়াল - ফটোবুক

আতঙ্কের দেয়াল, গেইল তুরিনএবছর নানা কারণে এখন পর্যন্ত বই মেলায় যাওয়া হয়নি। যদিও একদম কাছ থেকে একদিন ঘুরেও এসেছি। সময় স্বল্পতায় সেদিন ইচ্ছে থাকলেও বই মেলায় ঢুকতে পারিনি। গণমাধ্যমে এবং বন্ধুবান্ধবদের কাছে বইমেলার বিশাল আয়োজনের কথা শুনে মনে হয়েছে পূরো বইমেলা ঘুরতে সারাদিন না, মোটামুটি ২/৩ দিন লাগতে পারে। ট্র্যাফিক জ্যামের কারণে আসতে যেতেই তো ঘন্টা চারেক সময় এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়। এবার তাই অনলাইনে এবং পত্র-পত্রিকায় নজর রাখছি নিয়মিত – সব বই তো আর কিনতে পারবো না, পছন্দসই বই হলেই নোট করে রাখছি। হয়তো কোন একদিন গিয়ে কিনে ফেলবো অথবা কোন অনলাইন শপ থেকেই ঘরে বসে অর্ডার করে দিবো। যদিও বই মেলায় শুধূ বই কিনতে না, চেনা-পরিচিতদের সাথে দেখা এবং আড্ডা দেয়ারও একটি খূব ভাল মাধ্যম।

যাই হোক। কয়েকদিন আগে পত্রিকায় একটি বই এর বিজ্ঞাপন নজর কাড়লো – বিজ্ঞাপনে লেখা ছিলো ফটোগ্রাফি বিষয়ক বই। বাংলায় লেখা নাম এবং লেখকের নাম দিয়ে গুগলে সার্চ দিয়েও কিছু পেলাম না। কেবল জানা গেলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে এই ফটো এলবাম। শেষ পর্যন্ত আজিজ সুপার মার্কেটে গিয়ে কিনেই ফেললাম প্রকাশকের দোকান থেকে।

১৯৯৩ সালে ভারত তার বাংলাদেশ সংলগ্ন সীমান্তে ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিতে শুরু করে। তাদের যুক্তি ছিলো অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা। কিন্তু সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে ভারত নির্ভর। ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ কিংবা চোরাচালান করে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসাই এই সব সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর মূল পেশা। ফলে তারা নানা ভাবে এই কাঁটাতারের বেড়া টপকে ভারতে যাওয়া আসা করে। এছাড়া ব্রিটিশদের করে যাওয়া দেশভাগের কারণে অনেক পরিবারই বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছে দুই দেশে। তারাও বৈধ বা অবৈধ উপায়ে যাতায়াত করে থাকে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী অত্যন্ত কঠোর ভাবে এই অবৈধ যাতায়াত রোধ করার চেষ্টা করে। ফলে প্রতিবছর তাদের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারায় বেশ কিছু মানুষ। পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে যথেষ্ঠ লেখালেখি হয়েছে। বিশেষ করে ফেলানি হত্যার কথা এবং জনৈক গরু পাচারকারীকে দিগম্বর করে পেটানোর খবর সচিত্রভাবেই মিডিয়ায় এসেছে। বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ করলেও ভারতীয় পক্ষ নামকাওয়াস্তে বিচার এর ব্যবস্থা করেছেন মাত্র। ফেলানি হত্যার দায়ে এখন পর্যন্ত কারো সাজা হয়নি।

বেলজিয়ামের ফটোজার্নালিষ্ট গেইল তুরিন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই প্রান্ত থেকেই আতংকের এই দেয়াল পর্যবেক্ষন করেছেন। তার ভাষায় – “কাঁটাতার এবং কংক্রিটের তৈরী, দূর্গম এবং কঠোর প্রহরাধীন এই দেয়াল এখন পৃথিবীর সবচাইতে রক্তাক্ত এবং ভয়ঙ্কর বলে পরিচিত”  –  পরিসংখ্যান বলছে প্রতি ৫ দিনে একজন বাংলাদেশী বিএসএফ এর হাতে প্রাণ হারান। তার তোলা ৬২টি ছবি দিয়ে তৈরী হয়েছে এই ফটোবুক। ছবিগুলোর সাথে সাথে বর্ণনা থেকে সেই এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থানটি সহজেই অনুমান করে নিতে পারবেন যে কোন পাঠক/দর্শক।

বই এর নাম : আতঙ্কের দেয়াল
লেখক / ফটোগ্রাফার : গেইল তুরিন
অনুবাদ : অসিত রায়
প্রকাশক : প্রথমা প্রকাশন
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৮০
বই এর আকার : ৭.২৫ x ৭.২৫ ইঞ্চি
মূল্য : ৩০০ টাকা

বই এর ছাপা, প্রচ্ছদ ভালই, তবে বাঁধাই খূব একটা ভাল না। মেলা চলাকালিন সময়ে মেলা থেকে বা প্রথমার যে কোন বিক্রয় কেন্দ্র থেকে বইটি ২৫% কমিশনে অর্থাৎ ২২৫ টাকায় কিনতে পারবেন। অনলাইনে একই সূবিধা দিচ্ছে রকমারি.কম।

বইটি দেখা এবং পড়ার পর আমার মনে হয়েছে ভারতীয় পক্ষ একদিকে চোরাচালানি উৎসাহিত করছেন, অন্যদিকে সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারছেন। ফেনসিডিল উৎপাদন নাকি ভারতে নিষিদ্ধ, অথচ প্রতিনিয়তই ভারত থেকে এই তথাকথিত কফ সিরাপটি বাংলাদেশে চোরাচালান হয়ে ঢুকছে এবং পৌছে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেশাখোরদের কাছে। গরু চোরাচালানের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ সরকার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর কোন উন্নয়ন এখন পর্যন্ত করতে পারে নাই। ফলে এদের বেশীর ভাগই চোরাচালানের মতো ঘৃণ্য পেশায় যুক্ত।

রকমারি.কম লিঙ্ক
পড়ুয়া লিঙ্ক
গেইল তুরিন এর লিঙ্ক

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>