মে ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« জানু    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Free counters!

প্রয়োজনীয় একসেসরিজ - ১

ফটোগ্রাফী করতে গেলে ক্যামেরা/লেন্স এর সাথে কিছু একসেসরিজও লাগে। এগুলো হয়তো সরাসরি ফটোগ্রাফীর সাথে যুক্ত নয় তবে আপনাকে ফটোগ্রাফীর ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করবে। আজ আপনাদের এমনই কিছু ছোট-খাট একসেসরিজের কথা বলবো যা আপনি সংগ্রহে রাখতে পারেন।

UV Filter০১. ইউভি ফিল্টার : ফিল্ম ক্যামেরার যুগে ইউভি ফিল্টারের কাজ ছিলো ইউভি রে থেকে রক্ষা করা, এই ইউভি রে এর কারণে নাকি ছবি কিছুটা হেজি হয়ে যেতো। তবে বর্তমানে ডিজিটাল ক্যামেরার যুগে এর আর কোন কাজ নেই, কারণ ক্যামেরার ভিতরে সেন্সরের সামনে ইউভি রে প্রতিরোধক একটা ফিল্টার থাকে। বর্তমানে এর কাজ হলো লেন্সের ফ্রন্ট এলিমেন্টকে যে কোন অনাকাঙ্খিত আঘাত বা আঁচরের হাত থেকে বাঁচানো। ঢাকায় একটি লেন্সের মিনিমাম দাম ৬/৭ হাজার টাকা। তো এই লেন্সের সামনে যদি ৫০০ টাকা দামের ইউভি ফিল্টার লাগানো থাকার ফলে কোন আঘাত বা আঁচর থেকে লেন্সটি রক্ষা পায় তো মন্দ কি। এ কারণে এই ফিল্টারটিকে প্রোটেক্টিভ ফিল্টার ও বলে। নাইকন এজাতীয় ফিল্টারকে বলে এনসি ফিল্টার।

মূল্য : সাধারণগুলি ৫০০ টাকাতেই পাবেন ঢাকায়। তবে B&H বা HOYA এর মতো নামী কোম্পানিগুলোর দাম অনেক বেশী।

সাবধানতা : বলা হয়ে থাকে দামি লেন্সের সামনে কমদামি ফিল্টার ব্যবহার করার মানে হলো ছবির বারোটা বাজানো। কথাটি সত্যি। সাধারণ ফিল্টার বেশীর ভাগ সময়ই ফ্লেয়ার তৈরী করে। আমি নিজে ৩০০-৫০০ টাকা দামের ইউভি ফিল্টার ব্যবহার করে থাকি লেন্সে। তবে ছবি তোলার সময় সাধারণত খুলে রাখি। ক্যামেরা নিয়ে যাতায়াতের সময় ফিল্টার লাগানো থাকে।

air blower০২. প্লাষ্টিক বক্স, সিলিকা জেল এবং এয়ার ব্লোয়ার : আমাদের দেশে বর্ষাকালে জলীয় বাস্প বেশী আবার শীতকালে ধূলো। দুটোই ক্যামেরা এবং লেন্সের জন্য ক্ষতিকর। জলীয় বাস্প এবং অন্ধকার স্যাতস্যাতে পরিবেশ লেন্সের গায়ে ফাঙ্গাস তৈরীতে মূখ্য ভূমিকা রাখে। তাই লেন্স সবসময় শুস্ক, আলো আছে এমন জায়গায় রাখা উচিত। এরজন্য যে কোন এয়ার টাইট বক্সে লেন্স রাখা উচিত। বাজারে ৩০০-৫০০ টাকার মধ্যে ভাল মানের এয়ারটাইট বক্স পাওয়া যায়। ক্যামেরা / লেন্স যখন ব্যবহার করবেন না কিংবা বর্ষা কালে এগুলো এসব এয়ার টাইট বক্সে রাখা উচিত। সাথে সিলিকা জেল দিয়ে রাখলে ভিতরের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে বক্সটিকে পূরো শুস্ক রাখবে। সিলিকা জেল পাবেন হাটখোলা রোডের সাইন্টিফিক ষ্টোর গুলিতে। দাম ৩০০-৪০০ টাকা কেজি।

এমনিতে আমাদের দেশে ধূলাবালি বেশী, শীতকালে আরো বেড়ে যায়। তাই বাইরে থেকে ছবি তুলে আসার পর ক্যামেরা লেন্স এগুলো পরিস্কার করা উচিত। এই পরিস্কারের কাজে প্রথমেই আপনার যে জিনিসটি লাগবে সেটা হলো এয়ার ব্লোয়ার। এটা দিয়ে ক্যামেরা / লেন্সের বাইরে এবং ভিতরের আলগা ধূলা সহজেই পরিস্কার করা যায়। দাম ২৫০/৩০০ টাকা। তবে ক্লিনিং কিটের সাথে কেনা লাভজনক।

সাবধানতা : লম্বা সময়ের জন্য এয়ার টাইট বক্সে ক্যামেরা/লেন্স রাখার প্রয়োজন হলে অতি অবশ্য ক্যামেরা থেকে ব্যাটারি খুলে রাখবেন। একনাগারে বেশী দিন সিলিকা জেল দিয়ে এয়ার টাইট বক্সে ক্যামেরা/লেন্স রাখলে শুস্কতা এতো বেশী হতে পারে যে ক্যামেরা/লেন্সের ভিতরে আঠা দিয়ে লাগানো কোন কিছু খুলে যেতে পারে। তাই মাঝে মধ্যে ক্যামেরা/লেন্স মাঝে মধ্যে বের করে ব্যবহার করা উচিত। এয়ার ব্লোয়ার ব্যবহার করার সময় এমনভাবে ব্যবহার করবেন যাতে এর শক্ত নলের মতো অংশটি ক্যামেরার ভিতরে না যায়। শক্ত নলের আঘাতে আপনার ক্যামেরার সেন্সর নষ্ট হতে পারে।

lens_pen০৩. মাইক্রো ফাইবার এবং লেন্স পেন : ক্যামেরার লেন্স এবং পিছনের এলসিডি’তে ধূলা ছাড়াও হাতের ময়লা লেগে যায়। এগুলো সাধারণত এয়ার ব্লোয়ার ব্যবহার করলেও যায় না। শুরুতে এয়ার ব্লোয়ার ব্যবহার করে পরিস্কার করার পর মাইক্রো ফাইবার দিয়ে এলসিডি এবং লেন্সের ফ্রন্ট এলিমেন্ট পরিস্কার করা উচিত। এতে যে সব ময়লা লেগে থাকে সেগুলো পরিস্কার হয়। আঙ্গুলের ছাপ সহজে লেন্স থেকে যেতে চায় না, এর জন্য দরকার লেন্স পেন। লেন্স পেনের এক মাথায় থাকে ব্রাশ, এয়ার ব্লোয়ার ব্যবহারের আগে আপনি এই ব্রাশ দিয়ে দিয়ে আপনার ক্যামেরা এবং লেন্স ভালমতো ঝেড়ে নিতে পারে। লেন্স পেনের অন্য পাশে থাকে কার্বণ এলিমেন্ট, হাতের ছাপ তুলতে এটি খূব কার্যকর। ঢাকায় ক্যামেরার দোকানে মাইক্রো ফাইবারের দাম মনে হয় ২০০/৩০০ টাকা আর লেন্স পেনের দাম কমপক্ষে ৬০০ টাকা।

[চলবে …]

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>