জুন ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« জানু    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Free counters!

ফিল্টার কথন

Filtersএকটা সময় ছিলো যখন ফটোগ্রাফাররা নানা ধরণের ফিল্টার সংগ্রহ করতেন আর ছবি তোলার সময় ব্যাগ ভর্তি করে সেসব নিয়ে যেতেন। আমি ফিল্ম ক্যামেরার কথা বলছি। এখনও যারা এই ক্যামেরা ব্যবহার করছেন তাদের অবশ্যই নানা ধরণের ফিল্টার রাখতে হয় – কালার কারেকশন ফিল্টার, সেপিয়া বা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ফিল্টার, ওয়ারমিং এবং কুলিং ফিল্টার – এরকম নানা ফিল্টার। ডিএসএলআর এর যুগে ফিল্টার আর তেমনভাবে দরকার হয় না। ক্যামেরার ফিচার ব্যবহার করেই আপনি এখন ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট বা সেপিয়া কালারের ছবি পেতে পারেন। আর ছবি তোলার পর পোষ্ট প্রসেসিং এর জন্য রয়েছে নানা ধরনের সফটওয়্যার যা দিয়ে কালার কারেকশন সহ ফিল্টারের সব কাজই আপনি করতে পারবেন। তারপরও কিছু কিছু ফিল্টার আপনার রাখতে হবে প্রয়োজনের তাগিদে। অনেকে অবশ্য বলেন ফিল্টার ব্যবহার করা মানে একটা দামী লেন্সের সামনে একটা কমদামী কাঁচ লাগিয়ে ছবির কোয়ালিটি নষ্ট করা। কথাটা অবশ্য একেবারে ফেলে দেয়ার মতো না। তাই ফিল্টার যখন ব্যবহার করতেই হবে ভাল মানের (অবশ্যই দামী) ফিল্টার ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত।

ইউভি ফিল্টার – বলা হয়ে থাকে আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির জন্য ছবি কিছুটা ঘোলা হতে পারে, তবে ডিএসএলআর ক্যামেরার জন্য কথাটা তেমন একটা খাটে না। তারপরও আমাদের প্রতিটা লেন্সের জন্য একটা করে ইউভি ফিল্টার রাখা উচিত। লেন্স মাত্রই একটা দামী জিনিস, কোন কোনটার দাম আবার লাখ টাকার উপরে। যে কোন কারণেই সেই লেন্সের সামনের এলিমেন্টে দাগ পড়তে পারে। আর দাগ পড়া মানেই লেন্সটা প্রায় বাতিল। একটা ইউভি ফিল্টার সামনে লাগানো থাকলে যে কোন আঘাত বা দাগ পড়া সবই হবে কয়েক’শ টাকা বা কয়েক হাজার টাকা দামের ফিল্টারের উপর। তাই ক্যামেরা বা লেন্স কেনার সময় অতি অবশ্যই মনে করে ইউভি ফিল্টার কিনবেন।

পোলারাইজার ফিল্টার – ডিএসএলআর এর যুগে যে ফিল্টারের ইফেক্ট কোন ভাবেই পোষ্ট প্রসেসিং এ সফটওয়্যার দিয়ে করা সম্ভব না সেটা হলো পোলারাইজার বা পোলারাইজিং ফিল্টার। এটা সারকুলার পোলালাইজিং ফিল্টার বা সিপিএল ফিল্টার নামেও সুপরিচিত। এটার কাজ মূলতঃ কাঁচ, পানি বা বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা থেকে যে আলো বিচ্ছুরিত হয় সেটা কমিয়ে দেয়া। ফলে কাঁচ বা পানির ছবি তুলতে গেলে সাধারণত আপনি যে ডিটেইলস গুলো পেতেন না এই আলোর বিচ্ছুরন (রিফ্লেকশন) এর জন্য সিপিএল ফিল্টার ব্যবহার করলে সেগুলো আপনি ছবিতে পাবেন। সিপিএলএরআরেকটা কাজ হলো কালার স্যাচুরেশন, তবে এটা আপনি সফটওয়্যারেও করতে পারেন। সিপিএল ফিল্টারের খারপদিক হলো এটা কালো একটা কাঁচ, ফলে আপনার শাটার স্পিড দুই ষ্টপ পর্যন্ত স্লো হয়ে যেতে পারে। ফলে অনেক সময় ট্রাইপড ব্যবহার না করলে আপনার ছবি ব্লার হয়ে যেতে পারে। সিপিএল ফিল্টার ব্যবহার করলে ছবিতে ভিনিয়েট (vignette – ছবির কোনাগুলি কালো হয়ে যাওয়া) হতে পারে।

নিউট্রাল ডেনসিটি ফিল্টার – সংক্ষেপে এনডি ফিল্টার নামেই বেশী পরিচিত। এটার কাজ হলো প্রখর রৌদ্রের সময় বিভিন্ন মাত্রায় আলো কমিয়ে দিয়ে শাটার স্পিড স্লো করা।ফলে ছবিতে অনেক খুঁটিনাটি (ডিটেইলস) চলে আসে। এনডি২ এক ষ্টপ, এনডি৪ দুই ষ্টপ আর এনডি৮ তিন ষ্টপ পর্যন্ত আলো কমিয়ে শাটার স্পিড স্লো করে। আরেকটা আছে বিগ ষ্টপার নামে যেটা দশ ষ্টপ পর্যন্ত আলো কমাতে পারে। এটার কাজ সফটওয়্যার দিয়ে করা গেলেও কোন কোন পরিস্থিতিতে এটা অপরিহার্য। যেমন – ভর দুপুর বেলা। এই ফিল্টার গুলি গোলাকার এবং বর্গাকার দুই ধরণের হয়। বর্গাকার ফিল্টারগুলি ব্যবহারের জন্য এডাপ্টার রিং এবং হোল্ডার আলাদা করে কিনতে হয়।

গ্র্যাজুয়েটেড / গ্র্যাডিয়েন্ট নিউট্রাল ডেনসিটি ফিল্টার – এটাও এক ধরনের এনডি ফিল্টার। ধরেন সন্ধ্যার সময় ছবি তুলবেন, আলো কমে এসেছে। আকাশ অনেক বেশী আলোকিত, কিন্তু সেই তুলনায় ভূমি (সারফেস) তেমন একটা না। এ অবস্থায় ছবি তুললে আকাশ ঠিকমতো এক্সপোজ হলে ভূমি দেখবেন আন্ডার এক্সপোজড হয়ে গেছে। আবার ভূমি ঠিকমতো এক্সপোজড হলে আকাশ ওভার এক্সপোজড। এটার জন্য আপনার এই ফিল্টারটা দরকার। এর উপরের দিকটা ধূসর বা অন্য কোন কালার আর নিচের দিকটা ক্লিয়ার। এটাও গোলাকার বা বর্গাকার দুই ভাবেই পাবেন। এটাকে আবার হার্ড এজ এবং সফট এজ দুই ভাবে পাবেন। উপরের ধূসর অংশটা যদি ধীরে ধীরে নিচের দিকে ক্লিয়ার হয়ে যায় সেটা সফট এজ, আর ধূসর থেকে সরাসরি ক্লিয়ার হয়ে গেলে সেটা হার্ড এজ।

এই ফিল্টারগুলির বাইরে আপনি আরো দু’য়েকটা ফিল্টার রাখতে পারেন। য়েমন ম্যাক্রো ফটোগ্রাফী করতে চাইলে ম্যাক্রো বা ক্লোজ আপ ফিল্টার, ইনফ্রা রেড ফটোগ্রাফীর জন্য ইনফ্রারেড ফিল্টার ইত্যাদি।

ফিল্টার কেনার আগে আপনারলেন্সেরউপযোগীফিল্টারের মাপটা জেনে নেবেন। যেমন নাইকন ১৮-৫৫ মিমি কিট লেন্সের জন্য আপনার দরকার হবে ৫২ মিমি এর গোলাকার ফিল্টার। বর্গাকার ফিল্টার ব্যবহার করতে চাইলে এক্ষেত্রে আপনার এডাপ্টার রিং এর সাইজ হতে হবে ৫২ মিমি।

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>